Free Delivery on Makeup & Skin care purchases above 1500BDT
এই শীতে ঠোঁটের যত্ন, ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায়
| by Alpona Akhter Sraboni

এই শীতে ঠোঁটের যত্ন, ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায়

ঠোঁটের রং বদলে যেতে খুব বেশি সময় লাগে না। ঠোঁটের স্বাভাবিক গোলাপের রং বদলে গিয়ে ধীরে ধীরে জমা উঠে কালচে ছোপ, বিবর্ণতা কিংবা অস্বস্তিকর দাগ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না এই পরিবর্তনটা ঠিক কখন শুরু হলো। 

রোদে পোড়া, পানির অভাব, ভুল প্রোডাক্ট নাকি শরীরের ভেতরের কোন সংকেত!! কারণগুলো যেন একে একে গুলিয়ে যায়। 

ঠোঁটের ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি। এখানে নেই ত্বকের মতো সুরক্ষামূলক স্তর, নেই তেল গ্রন্থির স্বাভাবিক আর্দ্রতা।

তাই সামান্য অবহেলা, অনিয়ম ও বাহ্যিক আঘাতের প্রভাবও ঠোঁটে স্থায়ী চাপ ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই কালচে দাগ শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি হতে পারে- ভিটামিনের ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘদিনের জীবনযাপনের ফল। 

এ কারণেই ঠোঁটের কালচে দাগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। 

ঠোঁটের কালচে দাগের সঠিক কারণ জানতে হবে, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপাদানের ভূমিকা দেখে এবং নিয়মিত যত্নের সমন্বয়েই ঠোঁট ফিরিয়ে পেতে পারে তার স্বাভাবিক রং ও স্বাস্থ্য।

ঠোঁটের কালচে দাগ আসলে কী? 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ভোটের এই সমস্যাকে বলা হয় লিপ হাইপারপিগমেন্টেশন (Lip Hyperpigmentation)। সহজ ভাবে বললে, ঠোঁটের ত্বকে যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মেলানিন তৈরি হয় তখন সেই অংশ গাঢ় হয়ে ওঠে।

মেলানিন হল ঠোঁটের প্রাকৃতিক রঞ্জক। যা আমাদের গায়ের রং নির্ধারণ করে। মুখ বা শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত পাতলা হওয়ার এখানে রঙের সামান্য পরিবর্তনও খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেক সময় সূক্ষ্ম কালচে ভাবটাও ধীরে ধীরে গভীর দাগে পরিণত হয়।

কেন ঠোঁটে কালকে দাগ পড়ে? 

১. সূর্যের আলো ও অতিরিক্ত ইউভি (UV) এক্সপোজার

ঠোঁটের ত্বকে প্রাকৃতিক সান প্রোটেকশন (Sun Protection) প্রায় নেই বললেই চলে। দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ইউভি (UV) রশ্মি সরাসরি ঠোঁটের কোষে আঘাত করে এবং মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। 

যারা নিয়মিত বাইরে থাকেন কিন্তু ঠোঁটের জন্য আলাদা যত্ন নেন না তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

২. পানিশূন্যতা ও শুষ্কতা 

শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়ে ঠোঁটে। শুষ্ক ঠোঁট সহজেই ফেটে যায়। ফলে মৃত কোষ জমে যায় এবং ধীরে ধীরে সেই জায়গা গুলো কালচে হয়ে ওঠে। বারবার ঠোঁট চাটার অভ্যাসও পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। 

৩. ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি 

শরীরে ভিটামিনের ঘাটতির কারণেও ঠোঁটের কালচে দাগ হতে পারে। বিশেষ করে- ভিটামিন বি-১২, আয়রন ও ফোলেট এর অভাব ঠোঁটের রং বদলে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ঠোঁটের কালচে দাগ শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতার নীরব লক্ষণ হিসেবেও দেখা দেয়।

৪. ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য 

ধূমপানের নিকোটিন ও টক্সিন ঠোঁটের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করে। ফলে ঠোঁট পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়না। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে ঠোঁট স্থায়ীভাবে কালচে হয়ে যেতে পারে।  

৫. অ্যালার্জি ও ভুল লিপ প্রোডাক্ট (Lip Product)

কিছু কসমেটিক (cosmetic) উপাদান, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধি ঠোঁটে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু অ্যালার্জি সেরে গেলেও অনেক সময় পিগমেন্টেশন (pigmentation) থেকে যায়।

৬. হরমোনজনিত পরিবর্তন 

অনেক সময় হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণেও ঠোঁট কালচে হয়ে যেতে পারে। যেমন: গর্ভাবস্থা, জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল, থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ম্যালানিন উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব ঠোঁটেও পড়ে। 

ঠোঁটের যত্নে কোন উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

ঠোঁটের কালচে দাগ কমাতে শুধু বাহ্যিকভাবে ঠোঁটকে নরম রাখে এমন উপাদান ব্যবহার করলে চলবে না। বরং যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর কার্যকারিতা বোঝাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ঠোঁটের জন্য উপকারী ও কালচে দাগ কমাতে সহায়তা করে এমন কিছু উপাদান হলো-

প্রাকৃতিক তেল ও বাটার: শিয়া বাটার, কোকো বাটার, নারিকেল তেল বা বাদাম তেলের মত উপাদান ঠোঁটে গভীর আর্দ্রতা যোগায়। এগুলো ঠোঁটের শুষ্কতা কমিয়ে নতুন কোষ গঠন করতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন ই: ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant)। যা ঠোঁটের ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে রিপেয়ার (repair) করতে সাহায্য করে এবং কালচে দাগ হালকা করতেও ভূমিকা রাখে।

অ্যালোভেরা (Aloe vera) ও উদ্ভিজ এক্সট্র্যাক্ট (Extract): অ্যালোভেরা ত্বককে শান্ত করে, প্রদায় কমায় এবং প্রাকৃতিকভাবে পিগমেন্টেশন হালকা করতে সহায়তা করে। 

SPF (Sun Protection Factor) সমৃদ্ধ উপাদান: সূর্যের ক্ষতি থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করতে SPF সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নিয়মিত সান প্রটেকশন (Sun Protection) ব্যবহার না করলে অন্য সব যত্নই ব্যর্থ হয়ে যায়।

ঘরোয়া যত্নে কী করা যেতে পারে? 

ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করা সম্ভব। তবে ধৈর্য নিয়ে নিয়মিত যত্ন করা জরুরি। 

লেবু (Lemon): ২০০২ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সাইট্রাস ফলের খোসা মেলানিন উৎপাদন প্রতিরোধকারী হিসেবে কাজ করতে পারে। 

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে একটি লেবু কেটে রসালো অংশটি আলতো করে ঠোঁটে ঘষুন। পরদিন সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন। ফল না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এতে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

লেবু, চিনি ও গ্লিসারিন: ঘুমানোর আগে একটি লেবুর টুকরো কেটে তাতে চিনি ও  গ্লিসারিন লাগিয়ে নিন। চিনিযুক্ত লেবু দিয়ে ঠোঁট ঘষুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ (Turmeric): ২০১০ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, হলুদ মেলানিন উৎপাদন রোধকারী হিসেবে কাজ করে।

একটি ছোট বাটিতে ১ টেবিল-চামচ দুধ ও পেস্ট তৈরি করার মতো পরিমাণ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এরপর ভেজা আঙুল দিয়ে পেস্টটি ঠোঁটে ঘষুন। প্রায় পাঁচ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে আপনার পছন্দের ময়েশ্চারাইজার লাগান।

অ্যালোভেরা (Aloe Vera): অ্যালোভেরার উপাদান মেলানিন উৎপাদন বাধা দেয়। প্রতিদিন একবার ঠোঁটে পাতলা করে তাজা অ্যালোভেরা জেল লাগান। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ডালিম (Pomegranate): ডালিমের নির্যাস ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করতে পারে।

১ টেবিল-চামচ ডালিমের বীজ, ১ চা-চামচ গোলাপজল এবং ১ টেবিল-চামচ তাজা দুধের ক্রিম একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি প্রায় তিন মিনিট ঠোঁটে আলতো করে ম্যাসাজ করুন, তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩০দিন ব্যবহার করুন, দাগ হালকা হয়ে যাবে। 

 

অতিরিক্ত টিপস: 

  • ঠোঁটকে স্বাস্থ্যজ্জল রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • ঠোঁট চাটা ও কামড়ানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন 
  • অতিরিক্ত স্ক্রাব বা শক্ত উপাদান ব্যবহার করবেন না, এতে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?

  • দাগ দ্রুত বাড়তে থাকলে
  • রক্তপাত, ব্যথা বা খসখসে ক্ষত হলে
  • দীর্ঘ সময়েও দাগ না কমলে
  • দাগের রঙ বা আকৃতি অস্বাভাবিক মনে হলে

 

ঠোঁটের কালচে দাগ কোনো রাতারাতি তৈরি হওয়া সমস্যা নয়, আবার এর সমাধানও রাতারাতি আসে না। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, অবহেলা ও শরীরের ভেতরের পরিবর্তনের কারণে। তাই সমাধানেও হতে হবে ধৈর্যশীল এবংসচেতন।

সঠিক উপাদানভিত্তিক যত্ন, সূর্য থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাদ্য এবংএই ছো ট ছোট অভ্যাসই ঠোঁটকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বাভাবিক রঙ ও কোমলতা।কারণ ঠোঁটের সৌন্দর্য শুধু রঙে নয়, স্বাস্থ্যেও। 

Sharing is caring

Relevant Products